রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বর্তমান প্রধান সমস্যা হিসেবে জ্বালানি সংকটকে চিহ্নিত করেছেন এবং তা সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের মহাপরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেছেন। বৈশ্বিক রাজনৈতিক সংঘাত, যুদ্ধ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্নের কারণে সৃষ্ট এই সংকট আজ পুরো দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনকে প্রভাবিত করছে। অতীতের ভগ্ন অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক মন্দার ধাক্কা সামলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া নিঃসন্দেহে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।
এই পরিস্থিতিতে সংকটের সত্যতা স্বীকার করে দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং জাতীয় আস্থা ধরে রাখাই হলো উত্তরণের প্রধান পথ।
জরুরি অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে স্বল্পমেয়াদি আমদানির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।
সমস্যা সমাধানের প্রথম ধাপ হলো বাস্তবতা স্বীকার করা। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক জ্বালানি সংকটের বিষয়টি স্পষ্ট করা এবং অচিরেই সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করা দেশের শিল্প খাত ও সাধারণ নাগরিকদের আশান্বিত করে।
বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা থেকে সুরক্ষিত থাকতে দেশের নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি সৌর ও বায়ু শক্তির মতো নবায়নযোগ্য খাতের প্রসারে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে যেন উৎপাদনমুখী শিল্প, বিশেষ করে পোশাক ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি বন্টন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
অতীতে যেকোনো কঠিন মুহূর্তে জনগণ যেভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রেখেছে, সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়াই এখন বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অনিয়ম রোধ এবং খেলাপি ঋণের বোঝা কমিয়ে এনে বাজার ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আনা জরুরি। অর্থনৈতিক সংকটকালে প্রতিটি খাতে স্বচ্ছতা ও জাতীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সংকট মোকাবিলায় গৃহীত উদ্যোগগুলো দ্রুততম সময়ে ইতিবাচক ফলাফল আনে।
জ্বালানি নিরাপত্তা কেবল একটি সরকারি দপ্তর বা খাতের বিষয় নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে মহাপরিকল্পনার কথা বলেছেন, তা যেন দ্রুত দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপে রূপ নেয়—এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।
বৈশ্বিক সংঘাতময় পরিস্থিতিতে কেবল স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা নয়, বরং স্বনির্ভর জ্বালানি কাঠামো ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই দেশের অর্জিত প্রবৃদ্ধিকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

লেখক: বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তক।