নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে ছবিগুলো ছিঁড়ে ফেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার। তিনি ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
ছবি ছেঁড়ার আগে আবু তৈয়ব হাবিলদার বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূত্রটা জিন্নাহ তৈরি করে দিয়েছে। কার্জন হলে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে বলে যে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে, বাংলা হবে না। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র প্রতিবাদ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, জিন্নাহ সাহেব, আপনার এই সিদ্ধান্ত আমরা মানি না। তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলনের মূল নায়ক হিসেবে প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ১১ মার্চ ১৯৪৮ কার্যক্রম শুরু করেছিলেন এবং তার নেতৃত্বে হরতাল পালন করা হয়। সেখানে অনেক ছাত্র গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, দুই হাজারের ওপরে। সেই জিন্নাহ ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না।
এদিকে, এ ঘটনার বিষয়ে ডাকসুর নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ডাকসু সংগ্রহশালায় হামলা করে ছবি ভাঙচুর করা হয়েছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, ডাকসুতে ছবি ভাঙচুরের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ ঘটনায় কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আইনগত পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ডাকসু ভবনে বিতর্কিত ছবি লাগানোর কারণ, উদ্দেশ্য এবং সেটি অপসারণের ঘটনাসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় বৃহত্তর আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হবে।
ডাকসুর অবস্থান সম্পর্কে প্রক্টর বলেন, ডাকসু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়; এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অঙ্গ। তবে ডাকসুর কোনো কর্মকাণ্ড যদি প্রশাসনের বিকল্প হিসেবে পরিচালিত হওয়ার চেষ্টা করে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, সেটি গ্রহণযোগ্য হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো কাজের জন্য অনুমোদন নেওয়ার নির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকলে ডাকসুকেও সেই নিয়মের বাইরে গিয়ে ইচ্ছামতো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
তবে এ বিষয়ে ডাকসুর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ঠাঁই দেওয়ার প্রতিবাদে সেই স্থানটিতে যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে জুতাপেটার ছবি সাঁটিয়েছে ছাত্র ফেডারেশন। সোমবার বেলা ৩টার দিকে ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়ার নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী ছবিটি সাঁটান।
তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের সক্ষমতা রয়েছে বলেই তারা ইচ্ছামতো সবকিছু করতে পারে, এমনটি গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো কার্যক্রমের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

জানতে চাইলে অর্ক বড়ুয়া গণমাধ্যমকে জানান, “ডাকসু কারো বাপের না। ইতিহাসকে একপাক্ষিকভাবে উপস্থাপন কেউ মেনে নেবে না। “আর গোলাম আযমরা একাত্তরে যা করেছে, তার ফলাফল স্বরূপ একাশিতে মানুষ তাকে জুতাপেটা করেছে। আমরা এদেশের আপামর মানুষের সেই ইতিহাস সংরক্ষণ করেছি।"
প্রকাশক : মোহাম্মদ বদরুজ্জামান তালুকদার
সম্পাদক : খান মোহাম্মদ সালেক
Copyright © 2026 Daily Dhaka Press. All rights reserved.