Site icon Daily Dhaka Press

প্রসূতি স্বাস্থ্যে নতুন উদ্ভাবন ‘মায়াবেল্ট’ এর জন্য অ্যাওয়ার্ড জিতল পলিনোমিয়াল ইনস্টিটিউট

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রসূতি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উদ্ভাবিত বায়োমেডিক্যাল ডিভাইস ‘মায়াবে বেল্ট’ (Maya Belt) এর অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ ‘বাংলাদে শ আইসি টি অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ ব্যক্তিগত ও দলীয় বিভাগে মেরিট অ্যাওয়ার্ড (Merit Award) অর্জন করেছে পলিনোমিয়াল ইনস্টিটিউট।

সম্প্রতি ঢাকার মেরুল বাড্ডায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির (BRAC University) প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন নেটওয়ার্ক (বি আইআইএন)-এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আলমাস কবীরের সভাপতিত্বে ও পরিচালনায় এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।

প্রসূতি মায়েদের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুঝুুঁকি রোধে পলিনোমিয়াল ইনস্টিটিউটের যুগান্তকারী প্রকৌশল গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে এই জাতীয় সম্মাননা পেয়েছে। মাত্র কয়েক মাস আগেই দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠিত ১৫তম বিশ্ব উদ্ভাবন ও
সৃজনশীলতা অলিম্পিয়াড (World Invention Creativity Olympic – WICO 2026)-এ আন্তর্জাতিক রৌপপদক অর্জন করে মায়াবেল্ট উদ্ভাবক দল।

বিশ্বজুড়ে প্রসূতি মৃত্যুর প্রধান কারণ প্রসবত্তোর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (Postpartum Hemorrhage – PPH), যার কারণে প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৭০ হাজার মা প্রাণ হারান। উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব মৃত্যুর প্রায় ৯৪ শতাংশই ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল দেশ গুলোতে । প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উন্নত হাসপাতালে স্থানান্তরের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থা গুরুতর সংকটের মুখে পড়ে। প্রচলিত ম্যানুয়াল পোশাকের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ সম্পূর্ণভাবে সেবাদানকারীর শারীরিক শক্তির উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা অনির্দিষ্ট থাকে, এবং স্থানান্তরের সময় রোগীর গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক লক্ষণসমূহের (ভাইটাল সাইন) ধারাবাহিক বর্ণনা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌছায় না।

এই জীবনঘাতী প্রতিবন্ধকতা দূর করতে মায়াবেল্ট নিয়ে এসেছে স্বয়ংক্রিয় নিউমেটিক অ্যান্টিশক পোশাকর (Automated Pneumatic Anti-Shock Garment), যা ক্লোজড-লুপ হিমোডাইনামিক্স ও সার্বক্ষণিক ফ্লুইড ট্র্যাকিং প্রযুক্তির সমন্বয়ে কার্যকর সমাধান দেয়।

যেভাবে কাজ করে মায়াবেল্ট

স্বয়ংক্রিয় সেগমেন্টাল সংকোচন (Automated Segmental Compression): পা থেকে পেট পর্যন্ত
স্বতন্ত্রভাবে নিয়ন্ত্রিত ১৪টি নিউমেটিক চেম্বারের মাধ্যমে এটি ধাপে ধাপে সুষম ও ধারাবাহিক চাপ প্রয়োগ করে রোগীর হৃদপিণ্ড ও মস্তিষ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে।

বস্তুগত গ্র্যাভিমেট্রিক ট্র্যাকিং (Objective Gravimetric Tracking): ডিজিটাল স্ট্রেন-গেজ সংবলিত সেন্সরের মাধ্যমে এটি নিঃসৃত রক্তের ওজন তাৎক্ষণিকভাবে নিখুঁতভাবে পরিমাপ করে, যা খালি চোখের অনুমানের মারাত্মক ঝুঁকি সম্পূর্ণ দূর করে।

স্মার্ট ট্রায়াজ ও নিরীক্ষা লগ (Intelligent Triage & Audit Trail): মোট রক্তক্ষরণের পরিমাণ, রক্তক্ষরণের গতি ও রোগীর ভাইটাল সাইন সমন্বয় করে এটি রঙভিত্তিক একটি সুস্পষ্ট ট্রায়াজ প্রদর্শন করে। একই সঙ্গে উন্নত হাসপাতালের চিকিৎসকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুবিধার্থে একটি সময়চিহ্নিত (timestamped) হস্তান্তর লগ তৈরি করে।

স্থানান্তর ও ট্রানজিট-বান্ধব নকশা (Transit-Ready Design): প্রত্যন্ত কমিউনিটি ক্লিনিক কিংবা চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সে বিশেষজ্ঞ প্রসূতি চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতেও ধাত্রী ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সহজে ও দ্রুত ব্যবহারের উপযোগী করে এটি তৈরি করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত ও দলীয় ক্যাটাগরিতে এই স্বীকৃতি অর্জিত হলেও, মায়াবেল্ট মূলত পলিনোমিয়াল ইনস্টিটিউটের একদল তরুণ প্রকৌশলী ও গবেষকের নিরলস আন্তঃবিভাগীয় যৌথ প্রচেষ্টার ফসল। গবেষকরা হলেন মুমিন উজ জামান (,আব্দুল্লাহ আল জুনায়েদ,মাহির শাহরিয়ার আবেদিন,মোহাম্মদ আতেফ ভূঁইয়া,মো.রায়েন শাহরিয়ার প্রত্যয়,এসএম আবতাহী নূর,ইয়াসিন আরাফাত,জুবায়ের হাসান সাদ। এছাড়াও পলিনোমিয়াল ইনস্টিটিউট ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী সকল শিক্ষার্থী, গবেষক এবং কারিগরি সহযাত্রীদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকৃত।

Exit mobile version