
এই সফরকে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক সফর হিসেবে দেখলে ভুল হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফলাইন চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। অথচ মোংলা বন্দরের সক্ষমতার মাত্র ৩০-৪০ শতাংশও আমরা ব্যবহার করতে পারিনি। নাব্যতা সংকট, সংযোগ সড়ক, কোল্ড চেইন ও আধুনিক জেটির অভাব — সব মিলিয়ে মোংলা ছিল সম্ভাবনার নাম, বাস্তবতার নয়।
এবার সেই চিত্র বদলানোর সুযোগ এসেছে। মোংলা যদি পুরোদমে সচল হয়, তবে খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা-যশোর অঞ্চলের কৃষি, চিংড়ি, পাট ও শিল্পপণ্য সরাসরি রপ্তানি হবে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর চাপ কমবে। বেজা ইকোনমিক জোন বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলে ২ লক্ষাধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।
সুন্দরবন পরিদর্শনও তাৎপর্যপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের মুখে সুন্দরবনকে শুধু বন নয়, জাতীয় নিরাপত্তা ঢাল হিসেবে দেখতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর আকাশপথে হিরণ পয়েন্ট দেখা সেই বার্তাই দেয় — উন্নয়ন হবে, কিন্তু পরিবেশকে রেখে।
আমরা আশা করবো, এই সফর থেকে তিনটি সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসবে:
১. মোংলা বন্দরের পূর্ণাঙ্গ ড্রেজিং ও রাত্রিকালীন নৌ-চলাচলের রোডম্যাপ
২. বেজা ইকোনমিক জোনের বিনিয়োগ ও অবকাঠামোর সময়সীমা
৩. সুন্দরবনকেন্দ্রিক ইকো-ট্যুরিজম ও উপকূলীয় বাঁধ সংস্কারে বিশেষ তহবিল
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দীর্ঘদিন অবহেলিত। এই সফর যদি কর্মপরিকল্পনায় রূপ নেয়, তবে "উপকূলের ভাগ্যোন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা" — এই শিরোনামটি শুধু খবর থাকবে না, ইতিহাস হবে।
লেখক: বিশিষ্ট কলামিস্ট রাজনীতিক এবং রাষ্ট্রচিন্তক।
প্রকাশক : মোহাম্মদ বদরুজ্জামান তালুকদার
সম্পাদক : খান মোহাম্মদ সালেক
Copyright © 2026 Daily Dhaka Press. All rights reserved.