Site icon Daily Dhaka Press

জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়োপযোগী পদক্ষেপ

Screenshot

রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান: বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানি ব্যবসায়ীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বান নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত।

স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী। যমুনা সেতু থেকে মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর থেকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল – বাংলাদেশের বড় বড় অবকাঠামোর পেছনে জাপানের JICA-র সহায়তা রয়েছে। কিন্তু এতদিন সম্পর্কটা ছিল মূলত সাহায্য-নির্ভর। এখন সময় এসেছে সম্পর্কটাকে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য-নির্ভর করার। প্রধানমন্ত্রী ঠিক সেই কাজটিই করেছেন।

কেন এই আহ্বান গুরুত্বপূর্ণ?

১. আস্থার সংকট কাটানো: গত দেড় দশকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ছিল বড় বাধা। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান যখন সরাসরি জাপানি ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন, তখন এটি একটি স্পষ্ট বার্তা – বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগবান্ধব হতে প্রস্তুত।

২. চীন-প্লাস-ওয়ান কৌশল: বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি এখন চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প খুঁজছে। এই “চায়না প্লাস ওয়ান” কৌশলে ভিয়েতনাম, ভারত অনেক এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশ এই সুযোগটি ধরতে পারেনি। জাপানি কোম্পানিগুলো এই কৌশলের নেতৃত্বে আছে। তাদের বাংলাদেশে আনতে পারলে অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিক্স, সেমিকন্ডাক্টরের মতো উচ্চ-প্রযুক্তির শিল্পে বিপ্লব ঘটবে।

৩. আড়াইহাজার জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাবনা: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রায় প্রস্তুত। কিন্তু সেখানে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ এখনো আসেনি। প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি আহ্বান সেই অঞ্চলকে সচল করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।

তবে শুধু আহ্বান জানালেই হবে না। জাপানি বিনিয়োগকারীরা অত্যন্ত পেশাদার ও নিয়ম-নিষ্ঠ। তাদের জন্য আমাদের তিনটি কাজ দ্রুত করতে হবে।
প্রথম, ওয়ান-স্টপ সার্ভিসকে সত্যিকার অর্থে কার্যকর করতে হবে।
দ্বিতীয়, বন্দর ও কাস্টমসের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে হবে।
তৃতীয়, আইনের শাসন ও চুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

জাপানিরা একবার আস্থা পেলে তারা দীর্ঘমেয়াদে থাকে। একটি জাপানি কোম্পানি মানে শুধু ডলার নয়, মানে প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উন্নয়ন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই আহ্বানকে আমরা স্বাগত জানাই। আশা করি, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক সাহায্যের গণ্ডি পেরিয়ে সত্যিকারের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে রূপ নেবে।

লেখক: বিশিষ্ট কলামিস্ট রাজনীতিক এবং রাষ্ট্রচিন্তক।

Exit mobile version