সৈকত ইসলাম: মাত্র ৫ বছরে ১৯টি আউটলেটের মাইলফলক স্পর্শ করার এই আনন্দে ২ নভেম্বর, সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন এই আউটলেটের উদ্বোধন করা হয়। প্রচণ্ড জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে আউটলেটটির শুভ উদ্বোধন করেন জনপ্রিয় অভিনেতা, ‘কাবিলা’ খ্যাত জিয়াউল হক পলাশ।
‘আর্ট’ ও ‘এলিট লাইফ স্ট্যাইল’ লি.এর চেয়ারম্যান এবং শিল্পোদ্যোক্তা মুহাম্মদ মামুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও নারী উদ্যোক্তা জান্নাতুল ফেরদৌস।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন জি এম আসহাবুল ইয়ামিন সুষম, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা মাহফুজ চৌধুরী, এজিএম মো. মামুনুর রশিদ ফয়সাল, অপারেশন্স ম্যানেজার আমানুর সাদী, মৃত্তিকা এম. চৌধুরী ও সারলিন এম. চৌধুরীসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মামুন চৌধুরী বলেন, আমরা ঢাকা থেকে শুরু করি সাত বছর আগে। এটা আমাদের উনিশতম শোরুম। পাবনায় আসার কারণ হচ্ছে—আমাদের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম’র মতে, বাংলাদেশের মধ্যে পাবনার মানুষ খুব শিক্ষিত এবং সচেতন। তারা অপ্রয়োজনে টাকা নষ্ট করেন না। তারা যৌক্তিক মূল্যে ভালো পণ্য কেনার মতো সচেতন।
অনেকেই মনে করেন যে, দাম কম হলে মান কমে যায়। এ ধারণা ভাঙার জন্য আমরা আসছি। এটা পাবনাবাসী খুব সহজেই বুঝতে পারবেন বলে আমরা পাবনাকে টার্গেট করে আসলাম।
মাত্র ৯৯ টাকা থেকে শুরু ফ্যাশনেবল পোশাক!
গ্রাহকদের জন্য দারুণ সব অফার নিয়ে হাজির হয়েছে ব্র্যান্ডটি। পাবনার নতুন এই আউটলেটে মাত্র ৯৯ টাকা থেকে ৯৯৯ টাকার মধ্যে পাঞ্জাবি, প্যান্ট, শার্ট, টি-শার্ট ও পোলো টি-শার্টসহ ছেলেদের যাবতীয় ফ্যাশনেবল ও আধুনিক পোশাকের বিপুল সমাহার রাখা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাবনার গ্রাহকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন হতে এমন একটি ব্যান্ড প্রত্যাশা করছিলেন, যে মাত্র ৯৯৯ টাকায় সকল প্রকার প্যান্ট এবং পাঞ্জাবি যাতে তারা পেতে পারেন। ‘এলিট লাইফ স্ট্যাইল’র এমন স্বল্প মূল্যেও পণ্যেও গুণগত মানে তারা খুবই সন্তুষ্ট ও তৃপ্ত।
কাবিলার একদিন, তার ফ্যান-জনতার পাগলামী অতঃপর ২ নভেম্বর পাবনায় যা হলো!
নিমন্ত্রণ পত্রে উদ্বোধনের নির্ধারিত সময় উল্লেখ ছিলো বিকেল ৪টায়। স্বভাবতই কাবিলা ভাই এই সময়ে বা সামান্য আগে পরে হাজির হওয়ার কথা, সেটা ব্যাটে বলে মিলেনি। হয়তো অনেক টা দেরী হয়ে গিয়েছিলো, যা এসব ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ঘটনা!
শপিং মলের গেটে কাবিলার জন্য মঞ্চ করা হয়েছিলো। কথা ছিলো প্রথমে মঞ্চে উঠে দুই/এক মিনিট কথা বলবে, এরপরে শোরুমে যাবে, ফিতা কাটবে, কেক কাটবে। আবার মঞ্চে ফিরে এসে উপস্থিত ফ্যান-জনতার সাথে ভাব বিনিময় করবে।
কিন্তু প্রথম দিকে অনেক অপেক্ষার পরেও কাবিলাকে না পেয়ে ফ্যান-জনতা হয়তো কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়েছে! অনেক অপেক্ষার প্রহর শেষে যখন কাবিলা আসলো তাকে মঞ্চ উঠানো হলো।
এই প্রথমেই তাকে মঞ্চে উঠানোটাই কাল হয়ে ছিলো। মঞ্চে উঠানোর পরে যা ঘটলো তা কোনোভাবেই পুলিশ, ১৫ জন বডিগার্ডও কাবিলা ভাইকে যথাযথ সিকিউরিটি দিতে পারেনি। ফিতা কাটা-কেক কাটা তো দূরের কথা, শোরুমের চেহারাই কাবিলাকে দেখানো গেলানা।
উপায়-অন্তর না দেখে উপস্থিত বুদ্ধির জোরে মুহূর্তেই আমরা কিছু পলিসি চেঞ্জ করে ফেললাম। ফিতা-কাচি-ফুল নিয়ে এবং গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে নিচের মঞ্চেই রওনা দিলাম। কাবিলাকেও ফুল দিয়ে বরণ করতে হবে, ফিতা তো কাটতেই হবে। গণমাধ্যম কর্মীদেরও কাবিলার মুখোমুখী করে দিতে হবে। ৩০ মিনিট বরাদ্দ রেখেছিলাম গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য। তাদেরও তো কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। এ ছাড়া তো কোন বিকল্পও নেই।
কিন্তু সব শেষে দেখো গেলো ফুল দিয়ে বরণ করা হলো, ফিতাও কাটা গেলো। কিন্তু কাবিলার সাথে সমন্বয় করে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া গেলো না কাবিলার ফ্যান-জনতার পাগলামীর জন্য!
যা হতে পারতো!
কিছু আয়োজন সফল হয় না, কিছু আয়োজন শিখিয়ে যায়। আমাদের হয়তো কিছু পলিসি ভুল ছিলো, হয়তো আমরা শেষ চেষ্টাটা করতে পারিনি। শেষ চেষ্টাটা করতে পারলে ইতিহাস হয়তো অন্যরকম হতো। সেই মুহূর্তে মঞ্চে তোলাটাই হয়তো ভুল ছিলো। গাড়ি থেকে নামিয়ে পুলিশ প্রটেকশনে সরাসরি শোরুমে নিয়ে গিয়ে ফিতা কেটে, কেক কেটে মঞ্চে আনলে হয়তো ইতিহাসটাই অন্যরকম হতে পারতো!
এই কাজগুলোই হয়তো আরও সুবিন্যস্তভাবে হতে পারতো। কিন্তু এই আয়োজনে আমি ডিসিশন মেকার না, একটা পার্ট মাত্র। তবুও দায়িত্ববোধ থেকে বলছি, এই শিক্ষাটা আমি ভুলবো না। পরের বার ইনশাআল্লাহ আরও সুন্দর, আরও সাজানো কিছু
শেষ ভালো যার, সব ভালো তার!
এইবার বুঝলাম, আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। এটা সত্য, ঠিক আমরা যে পরিবেশ চেয়েছিলাম; মেইনস্ট্রিম মিডিয়া আর স্থানীয় মিডিয়ার সহযোগিতা ও সমাবেশ, যাতে পাবনার জনগণের মাঝে ELITE এর প্রতিধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে, সেটা ষোলকলায় পূর্ণ হয়ে গেছে।এ খন ELITE Brand কে পাবনা শহরে চিনে না, এমন মানুষ খুবই কম পাওয়া যাবে।
ধন্যবাদ পাবনার গণমাধ্যম কর্মীদের, স্মরণকালের সেরা মিডিয়া কভারেজ দেয়ার জন্য। ধন্যবাদ পাবনাবাসীকে, ELITE কে আকাশচুম্বী প্রচার দেয়ার জন্য।

